আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৭
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৭
স্থানীয় সংবাদ
সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডারভর্তি লরির কয়েকটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর কারখানায় আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএফ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম রাত সাড়ে ১২টায় বলেন, আগুনের এ ঘটনায় প্রথমে ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিস্ফোরণে পাশের একটি চায়ের দোকানের মহিলাও নিহত হয়েছেন। তার নাম জয়নব (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। অন্যদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২০ জনকে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় কারখানায় সাড়ে তিনশ শ্রমিক কাজ করছিলেন। এ ছাড়া আগুন ছড়িয়ে পড়লে সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ আরও পাঁচ-ছয়টি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সন্ধ্যা ৭টায় সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে কয়েকটি সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এরপর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুন আশপাশে থাকা আরও পাঁচ-ছয়টি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
নিহত ওই নারী ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। মেয়ে সানজিদা আক্তার জানান, তার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন জয়নব। সানজিদা টেইলার্সে কাজ করেন। ওই টেইলার্সের দোকানের ভেতরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা। বাকি পাঁচজনের লাশ কভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, বিস্ফোরণে আহত ২৬ জনকে ইতোমধ্যে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই কারখানাটির আশপাশের সবজি বিক্রেতা ও পথচারী বলে জানা গেছে। কারখানার কেউ আছেন কি না, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট একসঙ্গে পাঠানো হয়। সেখানে তারা পাঁচ থেকে ছয়টি গাড়িতে আগুন দেখতে পায়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আগুন কোথা থেকে লেগেছে আর ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে, এটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানাতে হবে।’