সাভারে মসজিদের মাঠে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার ঘিরে আতঙ্ক
স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার

স্থানীয় সংবাদ

সাভারের আশুলিয়ায় প্রেশারকুকারসদৃশ বোমা উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ধরনের বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এবার একটি মসজিদের মাঠে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার পাওয়া গেছে। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর এটি দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বুধবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের একই দৃশ্য গভীর রাতে ড্রাম, ভেতরে প্রেশারকুকার

পুলিশ বলছে, বস্তুটি বোমা কি না, বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পরপর এমন ঘটনার কারণে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া প্রেশারকুকারসদৃশ বোমার সূত্র ধরে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি আস্তানা শনাক্ত ও সেখান থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নতুন উদ্ধার হওয়া বস্তুটির সঙ্গে ওই আস্তানার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান। ড্রামের মধ্যে কাপড়চোপড়, কুরআন শরিফসহ অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকারটি ছিল।

পরে স্থানীয়রা ড্রাম থেকে প্রেশারকুকারটি বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি সেখানে রেখে চলে যান।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে পুরো মাঠ ঘিরে রাখা হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।

সাভার-আশুলিয়া এলাকায় এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত ৩১ জুলাই আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় একটি দোকানের সামনে পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে প্রেশারকুকারসদৃশ বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে। ওই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয় এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পরে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে জেএমবির একটি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নতুন করে সাধাপুরে প্রেশারকুকার পাওয়ার পর দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো যোগসূত্রের নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সন্দেহজনক বস্তুটির প্রকৃতি বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই এটিকে সরিয়ে নেওয়া বা পরীক্ষা করার দায়িত্ব প্রশিক্ষিত সদস্যদের ওপরই রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে একটি ড্রাম ফেলে যাওয়ার বিষয়টি তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে। পরে ড্রামের ভেতর টেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার দেখতে পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, কারা রাখছে এসব বস্তু?

আশুলিয়ায় একই ধরনের বস্তু উদ্ধারের পর এবার সাভারের সাধাপুরে প্রায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দুটি ঘটনার মধ্যে সময়ের ব্যবধানও খুব বেশি নয়। এর সঙ্গে দক্ষিণ শ্যামপুরে জেএমবির আস্তানা শনাক্তের ঘটনাটি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে কোনো ঘটনাকে সরাসরি জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত করার আগে তদন্তের ফলের অপেক্ষা করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন উদ্ধার হওয়া বস্তুটির উৎস, সেটি সেখানে কারা রেখে গেছে এবং আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে সাভার-আশুলিয়ায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুধু স্থানীয় আতঙ্কই বাড়াচ্ছে না, এর পেছনে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড—সেটিও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

সাভার

 


  • Tags

সর্বশেষ সংবাদ

এই বিভাগের আরও খবর