১ বছর পর্যন্ত শিশুকে যেসব টিকা দিতে হয়
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয়

জন্মের পর থেকে এক বছর বয়স পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দিলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে এবং বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও প্রাণঘাতী অনেক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকাদান। 

জন্মের সময় যেসব টিকা দিতে হবে

জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে দেওয়া হয়—

  • বিসিজি (BCG): যক্ষ্মা (টিবি) থেকে সুরক্ষা দেয়।
  • ওপিভি-০ (মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা): পোলিও প্রতিরোধে।
  • হেপাটাইটিস বি (অনেক ক্ষেত্রে): জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিলে সবচেয়ে কার্যকর।

৬ সপ্তাহ বয়সে যেসব টিকা দিতে হবে

  • পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি ও হিব)
  • পোলিও টিকা (ওপিভি/আইপিভি)
  • নিউমোকক্কাল (PCV)
  • রোটাভাইরাস টিকা (যেখানে দেওয়া হয়)

১০ সপ্তাহ বয়সে যেসব টিকা দিতে হবে

  • দ্বিতীয় ডোজ পেন্টাভ্যালেন্ট
  • দ্বিতীয় ডোজ পোলিও
  • দ্বিতীয় ডোজ নিউমোকক্কাল
  • দ্বিতীয় ডোজ রোটাভাইরাস (টিকার ধরন অনুযায়ী)আরও পড়ুন

১৪ সপ্তাহ বয়সে যেসব টিকা দিতে হবে

  • তৃতীয় ডোজ পেন্টাভ্যালেন্ট
  • তৃতীয় ডোজ পোলিও
  • তৃতীয় ডোজ নিউমোকক্কাল (সূচি অনুযায়ী)
  • আইপিভি (যদি নির্ধারিত থাকে)

৯ মাস বয়সে যেসব টিকা দিতে হবে

  • হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা
  • কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুলও দেওয়া হয় জাতীয় কর্মসূচি অনুযায়ী।

টিকা দেওয়ার পর যা করবেন

  • টিকার কার্ড যত্ন করে সংরক্ষণ করুন।
  • নির্ধারিত তারিখে পরবর্তী ডোজ নিতে ভুলবেন না।
  • টিকা দেওয়ার পর হালকা জ্বর, ব্যথা বা ফোলাভাব হতে পারে, যা সাধারণত স্বাভাবিক।
  • শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক কান্না বা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

সময়মতো টিকা দেওয়া কেন জরুরি?

টিকা শুধু একটি শিশুকেই নয়, পুরো সমাজকেও সংক্রামক রোগের বিস্তার থেকে সুরক্ষা দেয়। নির্ধারিত সময়ের টিকা নির্ধারিত সময়েই দিলে সবচেয়ে ভালো রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তাই কোনো ডোজ বাদ না দিয়ে সময়মতো সব টিকা সম্পন্ন করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব।

শিশুর টিকা


  • Tags

সর্বশেষ সংবাদ

এই বিভাগের আরও খবর