১৯শে যেন ফুটবলকে পূর্ণতা দিলেন ইয়ামাল
টবল মাঠে আত্মপ্রকাশের আগেই ‘ওয়ান্ডার কিড’ মানে বিস্ময় বালকের খ্যাতি জুটিয়ে ফেলেন লামিনে ইয়ামাল। নামের পাশে এই খেতাব যে এমনি এমনি জোটেনি, তা প্রমাণ করে চলেছেন প্রতি ম্যাচেই। এমনকি লিওনেল মেসির উত্তরসূরি বলা হয়ে থাকে তাকে। এমন তকমার পরও ইয়ামালের পা কখনো মাটি থেকে সরেনি।

খেলাধুলা

১৬তম জন্মদিন পালনের আগেই বার্সেলোনায় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক ঘটে ইয়ামালের। তারপর যখনই মাঠে নেমেছেন, রেকর্ড যেন তৈরি হয়ে থাকে তার পায়ে লুটিয়ে পড়ার জন্য। সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পেলে-মেসিকে কখনো ছাড়িয়ে যান, কখনো আবার তাদের রেকর্ডে ভাগ বসান। দেখতে দেখতে তিনটি বছর কেটে গেল। সামনে কত দিন পড়ে আছে, অথচ ক্লাব ও দেশের হয়ে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতে ফেলেছেন।

ইয়ামাল কিন্তু তবুও মাটিতে পা রেখেছেন। ম্যাচ শেষ হতেই দুই হাত প্রসারিত করে দোয়া করলেন। নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন হারের যন্ত্রণায় ব্যথিত হয়ে মাঠে বসা মেসি একদৃষ্টিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে আছেন, তখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন ছেড়ে এগিয়ে আসেন ইয়ামাল। তাকে আসতে দেখে হাত বাড়িয়ে উঠে দাঁড়ান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তারপর দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরেন। মেসির পিঠে আলতো কয়েকবার হাত নেড়ে সান্ত্বনা দেন স্পেনের তারকা। এই মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি এখন ভাইরাল।

 

অথচ দুই দলের ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ২০০৭ সালে ২০ বছর বয়সী মেসি আর পাঁচ মাসের ইয়ামালের একটি ছবি আলোচনার তুঙ্গে। ইয়ামালকে বাথটাবে গোসল করাচ্ছেন বার্সার তরুণ তারকা। কোলেও নিয়ে স্নেহের চোখে তাকিয়ে আছেন ছোট্ট ইয়ামালের দিকে। সেই শিশুটি এখন বড় হয়ে গেছেন, আর মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা খুব সম্ভবত শেষ।

গতকাল দুজনের আলিঙ্গনের ছবি যেন এক প্রতীকি হয়ে উঠল—এক প্রজন্মের মশাল আরেক প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া হলো। ৩৯ বছর বয়সী মেসি তার শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। আর ইয়ামালের সামনে এখনো অনেক বছর পড়ে আছে। মেসির উত্তরাধিকার হিসেবে এখন তার ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার পালা।

মেসির চেয়ে ২০ বছরের ছোট ইয়ামাল আন্তর্জাতিক ফুটবলে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতে নিলেন। ২০২৪ সালে ইউরোর পর এবার বিশ্বকাপ। অথচ বিশ্বকাপের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়েছিলেন। কিন্তু ১৯ বছর ৬ দিন বয়সী ইয়ামাল শেষ করলেন সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইউরো ও বিশ্বকাপ জিতে।

সহজাত প্রতিভার অধিকারী ইয়ামাল স্পেনের লাকি চার্মও। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছেন, হারেননি একটিও। মেজর টুর্নামেন্টে ১৩টি ম্যাচে শুরুর একাদশে থেকে সবগুলোই জিতেছেন। মেজর টুর্নামেন্টে শুরুর একাদশে থেকে দীর্ঘতম শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়া ইউরোপিয়ান খেলোয়াড় তিনি।

স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে ইয়ামালের প্রতি ‘আন্তরিক কৃতজ্ঞতা’ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে, যেটা তাকে পরিণত হতে সাহায্য করবে এবং ইতোমধ্যেই যতটা সেরা ফুটবলার হয়েছে তার চেয়েও বেশি হবে। দলগত স্বার্থে সে সত্যিই ত্যাগ করতে পারে। আমার স্কোয়াডে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে সে সেরা বিশ্বকাপ খেলেছে।’

ইয়ামাল কেবল বিশেষ প্রতিভাই নয়, বিশেষ মেজাজসম্পন্ন প্রতিভা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে সামনে এনে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা ঠিকই এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। মাঠে ঠাণ্ডা রেখেছেন। দিনটা স্মরণীয় করে রেখেছেন দারুণ এক জয়ে।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই যেন ফুটবলকে পূর্ণতা দিয়েছেন। কিন্তু সামনে কার্যত পুরো ক্যারিয়ারই পড়ে আছে। অধিনায়ক রদ্রির মতো স্পেন সতীর্থদের অভিজ্ঞতা ও প্রভাব মাথায় নিয়ে এমন সাফল্য আরও যোগ করবেন, এমনটা আশা করাই যায়।


  • Tags

সর্বশেষ সংবাদ

এই বিভাগের আরও খবর